চাঁদপুর, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ মহররম ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • মতলব উত্তরের আমিরাবাদ এলাকায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মুল বেড়িবাঁধে মেঘনার আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৬-সূরা দাহ্র বা ইন্সান


৩১ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। এমন একটি প্রস্রবণ যাহা হইতে আল্লাহ্র বান্দাগণ পান করিবে, তাহারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করিবে।


৭। তাহারা কর্তব্য পালন করে এবং সেই দিনের ভয় করে, যেই দিনের বিপত্তি হইবে ব্যাপক।


 


 


অশিক্ষিত সন্তানের চেয়ে সন্তান না থাকাই ভালো।


-জন হে উড।


 


 


 


কবরের উপর বসিও না এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।


 


 


ফটো গ্যালারি
হিন্দু বিয়ে ও কিছু কথা
ড. আব্দুস সাত্তার
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিল। হিন্দু সমাজে ছেলেমেয়েদের বিশেষ করে মেয়েদের, বাল্যকালে বয়ঃসন্ধির পূর্বেই বিবাহ দেওয়াকে ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করা হতো। প্রাচীন হিন্দু আইনপ্রণেতা মনু নারীর বিয়ের বয়সের যে বিধান দিয়েছেন, তা হলো তিরিশ বছরের পুরুষ বারো বছরের কন্যাকে বিয়ে করবে। চবি্বশ বছরের পুরুষ আট বছরের কন্যাকে বিয়ে করবে, নইলে ধর্ম লঙ্ঘিত হয়। মনু আবার বিধান দিয়েছেন, 'কন্যা ঋতুমতী হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে আত্মীয়স্বজন তার বিয়ে না দিলে, কন্যা নিজের মনমতো পাত্র নির্ধারণ করলে কোনো বাধা নেই।' উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ভারতে যে সংস্কার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার উল্লেখযোগ্য একটি দিক ছিল বাল্যবিবাহের বিরোধিতা। ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। ১৮৭২ সালে হিন্দু বিবাহ আইন পাস হলে বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স মেয়েদের ১৪ এবং ছেলেদের ১৮ ধার্য করা হয়।



হিন্দু সমাজে পাত্র-পাত্রীর কোষ্ঠী বিচার করে দেখার রীতি আছে। পাত্রী-পাত্রীর অন্য কোনো বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও কোষ্ঠী বিচারে যোটক না মিললে বিবাহের আর অগ্রগতি হয় না। পারিপাশ্বক প্রভাবে মুসলিম সমাজেও পূর্বে কোষ্ঠী বিচার করে ছেলেমেয়ের বিবাহ দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। হিন্দু সমাজে বিয়ের আগে কথা পাকাপাকি করার অনুূষ্ঠানকে 'আশীর্বাদ' বলে। পাত্র-পাত্রী পছন্দ হলে সোনার আংটি বা টাকা দিয়ে পাকা কথা হয়ে থাকে। নতুন পাটি, নতুন খাতা, কলম দিয়ে পুরোহিতের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের কর্তা ব্যক্তিরা বিয়ের কথা চূড?ান্ত করেন। এটাকে অনেকে 'পাটিপত্র' বা 'মঙ্গলাচরণ' বলে থাকেন। এতে উল্লেখিত থাকতো বিয়ের দিন-ক্ষণ-লগ্ন এবং দেনা-পাওনার কথাও। বিয়ের আগের দিনকে বলা হয় 'অধিবাস' ঐ দিন বর-কনেকে পূজা করতে হয় এবং মধ্যরাতে নতুন কাপড?, গহনা পরে পাঁচ পদ দিয়ে খাবার খেতে হয়। বর-কনে উভয়ের বাড়িতেই অধিবাসের দিন একই আয়োজন হয়ে থাকে। বিয়ের দিন সাধারণত নির্ধারিত হয়ে থাকে পঞ্জিকা-অনুসারে শুভলগ্ন দেখে এবং পাত্র-পাত্রীর জন্মকোষ্ঠী বিচার করে। বিয়ের দিন বর-কনেকে গিলা, চন্দন, কাঁচা হলুদ, কাঁচা দুধ, ঘি, মধু এবং পুকুরের জল দিয়ে স্নান করানো হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বর ও কনে উভয়কেই না খেয়ে থাকতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় মধ্যরাতের পর কন্যাদান সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরদিন থাকে বাসিবিবাহ, এইদিন নানা আনুষ্ঠানিকতা চলতে থাকে। বাসিবিবাহের দিন উভয়কে পুরোহিত আবার মন্ত্র পড়ান এবং ঐ দিন প্রথা-অনুযায়ী নানা আনুষ্ঠানিকতা চলতে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ছোট পুকুরের মতো কেটে তাতে পানি বা দুধ দিয়ে গোলাপ পাপড়ি ভাসিয়ে আংটি লুকোচুরির খেলা। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, বিবাহে ছেলে মেয়েটির সমস্ত পালনপোষণের দায়িত্ব নেয় এবং মেয়েটি তাদের সংসারের খেয়াল রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এইভাবে তারা দুই আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে নিজেদের বংশ এগিয়ে নিয়ে যায়।



হিন্দুবিবাহ একটি ধর্মীয় আচারিক বা আধ্যাত্মিক বিষয় এবং এ জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত দলিলের প্রয়োজন হয় না। হিন্দু পরিবারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন ধরে চলে। ভবদেবের মতে, বিবাহের আচারাদি শুরু হয় জ্ঞাতি করমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। পিতার দিক থেকে কনের রক্তসম্পর্কীয়া আত্মীয়ারা বিবাহের প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। আট প্রকার বিবাহ পদ্ধতির মধ্যে ব্রাহ্মবিবাহই হিন্দুদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। ঋগ্বেদ ও অথর্ববেদে বর্ণিত বিবাহের মাঙ্গলিক আচরণগুলো আজও পালিত হয়। বিবাহকর্ম আরম্ভ থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠানগুলো ছিল : শুভদৃষ্টি, মাল্যদান, মন্ত্রপাঠ, যজ্ঞসম্পাদন, কন্যাদান, পাণিগ্রহণ, অগি্নপ্রদক্ষিণ, সপ্তপদীগমন এবং স্বস্তিবচন।



বহুবিবাহ প্রাচীনকাল থেকে এ দেশে প্রচলিত ছিল। জীমূতবাহনের ব্যাখ্যায় এবং প্রাচীন শিলালিপিতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ধর্মশাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী ব্রাহ্মণ চার পত্নী, ক্ষত্রিয় তিন পত্নী আর বৈশ্য দুই পত্নী গ্রহণ করতে পারেন। পুরুষের বহুবিবাহ শুধু শাস্ত্রীয় অনুমোদনই লাভ করে নি কার্যক্ষেত্রেও বহু প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়েছিল। আর দাম্পত্য জীবনে প্রাচীনকাল থেকেই নারীর প্রধান অশান্তির কারণ ছিল গৃহে সপত্নীর অবস্থান। ধর্মের বিধানে রাজারা যত ইচ্ছে বিয়ে করতে পারতো। শাস্ত্র পুরুষের শত শত বিবাহ সমর্থন করেছে। সেই শাস্ত্রের বিধানেই আবার নারীর একাধিক পতিত্ব কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের প্রধান প্রবক্তা মনু নারীর একপতিত্বের বিধান দিয়েছেন এবং স্বামী দুশ্চরিত্র হলেও স্ত্রীকে সারাজীবন পাতিব্রত্য পালন করতে বলেছেন। পতিপরায়ণতা সাধ্বী স্ত্রীলোকের পরম ধর্ম। চলবে...।



ড. আব্দুস সাত্তার : লেখক ও সাংবাদিক, ওয়াশিংটন ডিসি।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৫৯৪৯৯
পুরোন সংখ্যা