চাঁদপুর, বুধবার ৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ১৬ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২০। যাহাতে তোমরা চলাফেরা করিতে পার প্রশস্ত পথে।


২১। নূহ্ বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো আমাকে অমান্য করিয়াছে এবং অনুসরণ করিয়াছে এমন লোকের যাহার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাহার ক্ষতি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করে নাই।


 


দুজন চাটুকার একসঙ্গে বেশি দূর ভ্রমণ করতে পারে না।


-জন ব্রো।


 


 


 


পুরাতন কাপড় পরিধান করো, অর্ধপেট ভরিয়া পানাহার করো, ইহা নবীসুলভ কার্যের অংশ বিশেষ ।


 


 


ফটো গ্যালারি
শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় :আমরা যাদের মনে রাখিনি!
০৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে ৭ জন প্রধানমন্ত্রী ও ১৩ জন রাষ্ট্রপতির। ১৯৫২, ৬২, ৬৯, ৭১, ৯০-এর অগি্নঝরা দিনগুলোর পথ বেয়ে এসেছে অভূতপূর্ব ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান আর এ দেশের স্বাধীনতা। এসব আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যে চার মহাপুরুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তারা ছিলেন প্র্যাকটিসিং মুসলিম।



১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটনের পর পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে পূর্ব বঙ্গের প্রশাসনিক গোড়াপত্তন হয় বৃটিশ ভারতে। এ অঞ্চলটি ছিল মুসলিম প্রধান। মূলত দরিদ্র ও অশিক্ষার নিগঢ়ে বন্দী মুসলিমদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষা লাভের একটি সুযোগ তৈরি হয় বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে। হিন্দু নেতৃত্ব মুসলমানদের উত্থানের এ সুযোগকে গোড়া থেকেই বাঁকা চোখে দেখতে থাকে এবং প্রকাশ্যে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে থাকে।



রাজা পঞ্চম জর্জের নির্দেশে দিল্লী কোর্টের আদেশ বলে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। পূর্ববঙ্গ ও আসামের অবহেলিত মুসলিমদের হৃদয় ভেঙ্গে যায়। এর প্রতিবাদে নবাব সলিমুল্লাহ বৃটিশদের দেয়া খেতাব কেসিএসআই (নাইট কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দি স্টার অব ইন্ডিয়া) বর্জন করেন। নবাব পরিবার যদিও বৃটিশদের দালালিতে অভ্যস্ত ছিল, কিন্ত ঢাকার চতুর্থ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন এর উল্টো। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক এবং ধর্মপরায়ণ। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, ঢাকার পরিবাগে নবাব পরিবারের জামাই হযরত আব্দুর রহীম শাহের সমাধি অবস্থিত এবং তাঁরই পৌত্র শাহ সৈয়দ বদরুল বারী নবাব পরিবারের স্বীকৃত অধস্তন পুরষ, বর্তমান উত্তরাধিকার।



নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ ১৯১১ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে ল্যান্সেট হেয়ার-এর বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীকে নিয়ে পৃথক দুটি মানপত্রে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।



পরের বছর ১৯১২ সালে পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের ক্ষোভ প্রশমনের জন্য এ অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে আসেন। ৩১ জানুয়ারি ১৯১২ নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ, সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক লর্ড হার্ডিঞ্জের সাথে দেখা করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের ক্ষোভ প্রশমনের জন্য ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ রমনা এলাকার ৬০০ একর জমি (১৮০০ বিঘা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দান করে যান। এই নবাবদের দান করা জমির উপরই দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়)। শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অর্থের সংস্থানের জন্য নবাব পরিবারের শাহী খাজানার সিন্দুক 'দরিয়া-এ-নূর' বন্ধক রেখেছিলেন ব্যাংকের কাছে, যা এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখায় সংরক্ষিত আছে।



টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ছিলেন সংযুক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রী। তিনি সে যুগে ৩৫,০০০ টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেছিলেন। এছাড়াও তিনি মোট ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। তিনি লর্ড হার্ডিঞ্জকে যখন তার বাড়িতে স্বাগত জানান, যে অবস্থায় তার জমিদার বাড়িতে সভাকক্ষটি ছিল, সেই সভাকক্ষটি এখনো সেই অবস্থায় সংরক্ষিত আছে। তিনি কয়েকটি বই লিখেছিলেন-ঈদুল আজহা (১৮৯০), ভার্নাকুলার এডুকেশন ইন বেঙ্গল (১৯০০), মৌলুদ শরীফ (১৯০৩), প্রাইমারী এডুকেশন ইন রুরাল এরিয়াজ (১৯০৬) ইত্যাদি। মৌলুদ শরীফ নামের বইয়ের লিখন তাঁর ধার্মিকতার পরিচায়ক।



১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চাপা পড়ে যায়। তখন সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু ১৯১৭ সালের ৭ মার্চ ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সভায় নওয়াব আলী চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করেন।



আরও দু বছর পর, ১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বিশেষ কমিটির একমাত্র মুসলিম সদস্য খান বাহাদুর আহসানুল্লাহ (১৮৭৩-১৯৬৫ খৃঃ) কমিটির অধিকাংশের মতের বিরোধিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে সুপারিশমালা পেশ করেন। একটু পেছনে ফিরে যাই। আহসানুল্লাহ ১৯১১ সালে বৃটিশ সরকার কর্তৃক খান বাহাদুর উপাধি পান এবং সেই বছরই অবিভক্ত বাংলার হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯১২ সালের ২৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত ১৩ সদস্যের নাথান কমিটিতে তিনিই ছিলেন একমাত্র বাঙালি মুসলিম। বৃটিশ ভারতে কর্মবীর এ সূফী শিক্ষাবিদ শিক্ষা ও সমাজসেবায় বাংলাদেশে অনন্য সাধারণ অবদান রেখেছেন।



১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল অ্যাক্টে পরিণত হয় এবং ২৩ মার্চ তা গভর্নর জেনারেলের অনুমোদন লাভ করে। নবাব সলিমুল্লাহর ইন্তেকালের পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সফল বা বাদবাকি কাজ সমাধা করেছিলেন নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ১ জুলাই ১৯২১ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।



আর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ধার্মিকতার কথা তো সর্বজন বিদিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ ঢাকা মেডিক্যাল, বুয়েট প্রতিষ্ঠার পেছনে সর্বস্ব বাজি রাখা অবদান ছিল ঢাকার নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ, টাঙ্গাইলের সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর। অসামান্য অবদান রয়েছে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের, খান বাহাদুর আহসানুল্লাহর। তাঁরা সবাই ধার্মিক মুসলিম ছিলেন, সূফীবাদী ছিলেন । এ প্রজন্মের অনেকেই তা জানে না।



সৌজন্যে : https:/ww/w.facebook.com/jabalenoor.tv









 



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫৬৮৪০
পুরোন সংখ্যা