চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২ কার্তিক ১৪২৬, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০৩। যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সহিত যিহার করে এবং পরে উহাদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করিতে হইবে, ইহা দ্বারা তোমাদিগকে উপদেশ দেওয়া যাইতেছে। তোমরা যাহা কর আল্লাহ তাহার খবর রাখেন।


 


 


 


assets/data_files/web

গণতন্ত্রের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর নির্বাচন।


-এইচ. জি. ওয়েলস।


 


 


অতিথি সৎকারকারীর অসুবিধা উৎপাদন করিয়া অতিথির বেশিদিন অবস্থান করা উচিত নয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ চাই
এ. এস. এম. শফিকুর রহমান
০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গ্যাস মাটির নিচে মজুদ থাকা এক ধরনের দাহ্য পদার্থ। বাংলাদেশে এ যাবৎ প্রাপ্ত অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কূপ খনন করে মাটির নিচ থেকে আহরণ করা হয়। আহরিত গ্যাস পরিমার্জিত উপায়ে গৃহস্থালির রান্নাবান্নার কাজ এবং শিল্প সহ কল-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। এই বহুমুখী ব্যবহারের কারণে গ্যাস আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।



বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় বাংলাদেশকে সবসময় একটি প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মনে করা হয়। এই ধারণা থেকে বাংলাদেশে ভূখ-ে গ্যাস আহরণের অনুসন্ধান শুরু হয় ১৮৮৩ সালে আসাম রেলওয়ে ট্রেডিং কোম্পানীর মাধ্যমে। ১৯৫৫ সালে আসাম ওয়েল কোম্পানী সর্বপ্রথম এদেশে গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৭০ সময়কালে মোট ২২টি কূপ খনন করা হয়। অনুসন্ধানে ৮টি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৯২ সময়কালে ২৪টি নতুন কূপ খনন করে ৯টি গ্যাস ক্ষেত্র এবং ১৯৯৩-২০০০ সময়কালে ১০টি কূপ খননের মাধ্যমে আরো ৫টি নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।



১৯৫৯ সালে ছাতক গ্যাস ক্ষেত্র থেকে সর্বপ্রথম শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। ১৯৬৮ সালে প্রখ্যাত লেখক শওকত ওসমান সাহেবের ঢাকার ধানমন্ডিস্থ বাসায় সর্বপ্রথম পাইপ লাইনের মাধ্যমে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭টি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, সিমেন্ট, পেপার মিলসহ কল-কারখানায় গ্যাস দেয়া হয়। পরিবেশবান্ধব এই গ্যাস জ্বালানি হিসেবে গৃহস্থালি, পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় আবাসিক খাতে এ যাবৎ দেশে ৪০ লাখ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিতাস গ্যাস, জালালাবাদ গ্যাস এবং বাখরাবাদ গ্যাস প্রভৃতি সংযোগ ও বিতরণ কোম্পানীর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।



২০১০ সাল থেকে সরকারি এক আদেশের মাধ্যমে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে রান্নার কাজে সিলিন্ডার গ্যাস তথা এলপিজি (লিকিউড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবস্থায় উৎসাহিত করার জন্য এলপিজি গ্যাস সহজলভ্য করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলপিজি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়। পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করার ফলে আবাসনের মত বিরাট খাতে ধস নামে। ফ্ল্যাট বাসা কম দামে বিক্রি করতে হয়। বহু চাকুরিজীবী অবসরে এসে তাদের পেনশনের প্রাপ্ত সমুদয় টাকা খরচ করে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করে পাইপ লাইনে গ্যাসের অভাবে বর্তমানে অসহায় অবস্থায় আছে। কারণ গ্যাস না থাকায় বাসা ভাড়া দেয়া যায় না এমনকি বিক্রি করাও যায় না।



প্রায়শ সিলি-ার বিস্ফোরণে দুর্ঘটনায় জীবনহানির কারণে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসা-বাড়ি ছাড়াও হোটেল-রেস্তোরাঁয় সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার জীবনকে যেমন সহজ করেছে তেমনি বেড়ে গেছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া, অব্যবস্থাপনা, অবৈধ ব্যবস্থার তদারকির অভাবে এখন মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রায়ই বিস্ফোরণে জীবনহানি হয় এবং বহু মানুষ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। এই লেখা যখন লিখছি তখন ঢাকার রূপনগরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক পাঁচজনের মৃত্যু এবং ১৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। ব্যবহারে ও একস্থান হতে অন্যস্থানে পরিবহনে অসচেতনতা, মানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করায় গত পাঁচ বছরে দুই শতাধিক লোক হতাহত হয়েছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়। এ যাবৎ ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ ও অগি্নকা-ের ক্ষেত্রে পাইপের চেয়ে সিলিন্ডার গ্যাস বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়। বাসা-বাড়িতে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে বলে মাননীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তার বক্তব্যে আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার হয়েছে।



আবাসন শিল্পের বিকাশ, প্রাণহানির ঝুঁকি এড়ানো তথা গ্যাসের নিরাপদ ব্যবহারে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ দেওয়া অধিকতর নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বলে মনে করা হয়। তবে চুরি ও অপচয় রোধে প্রয়োজনে পাইপ লাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের ক্ষেত্রে মিটার বসালে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় হবে, এমনকি সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। জীবনের নিরাপত্তা কমানো তথা সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনের স্বার্থে সর্বোপরি রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য আবাসিক বাসা-বাড়িতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য জোর দাবি জানাই। আমি নিজেও বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সরবরাহকৃত গ্যাসের সুবিধাভোগী ভোক্তা। আমার এ লেখাটি বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম কর্তৃপক্ষের নজরে পড়বে কিনা জানি না। সুবিধাভোগী ভোক্তা হিসাবে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাই যে, সম্প্রতি চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ খুবই কম। যার ফলে শহরের ব্যাংক কলোনীসহ বিভিন্ন জায়গায় সকল সন্ধ্যা গ্যাস থাকে না। এজন্যে গৃহস্থালির রান্না বান্নার কাজ ব্যাহত হয়। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে পরিমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এই অনুরোধে শেষ করছি।



লেখক : এ.এস.এম. শফিকুর রহমান, লেখক ও সমাজকর্মী। মোবাইল ফোন : ০১৬৭০-৮৭১১-৫৮৯



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৮১০৯
পুরোন সংখ্যা