চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২ কার্তিক ১৪২৬, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪। ইহা এইজন্য যে, উহারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিল, এবং কেহ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করিলে আল্লাহ তো শাস্তিদানে কঠোর।


 


 


assets/data_files/web

আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
আবৃত্তিশিল্পী কামরুল হাসান মঞ্জু স্মরণে
নিকোলাস বিশ্বাস
০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী কামরুল হাসান মঞ্জু আর নেই। গত ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে...রাজিউন)। কামরুল হাসান দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি তিনবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ১৯৫৬ সালের ১০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের অন্তর্গত মুকসুদপুর উপজেলার বাশবাড়িয়ায় তাঁর জন্ম। বর্তমানে তাঁদের পারিবারিক নিবাস যশোরে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারালো একজন বরেণ্য আবৃত্তিকার ও মফস্বল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎকে।



আশির দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন মঞ্চে এরশাদবিরোধী কবিতা আবৃত্তি করে আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখেন। তখন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা 'চে তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়' তাঁর কণ্ঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তিনি ছিলেন উদার, বিনয়ী ও সংস্কৃতমনা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাথে ছিল দারুণ সখ্যতা। নিয়মিতভাবে তিনি জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।



আশি-নব্বই দশকে কামরুল হাসান মঞ্জুর হাত ধরেই বাংলাদেশে আবৃত্তিশিল্পের বিকাশ ঘটে। জীবনানন্দ দাশ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী, সুভাষ মুখার্জী থেকে শুরু করে সৈয়দ শামসুল হক, শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণের মতো বিখ্যাত কবিদের কবিতা তাঁর কণ্ঠেই তখন তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে। আবৃত্তির উপর তার প্রায় দুই ডজনেরও বেশি অ্যালবাম রয়েছে। ঢাকায় যেকোন আবৃত্তি কর্মশালা কিংবা কোর্স সমূহে কামরুল হাসান প্রশিক্ষক হিসেবে অবশ্যই থাকতেন। কিন্তু একসময় স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়লে ধীরে ধীরে সবকিছু থেকে তিনি দূরে সরে যান।



প্রান্তজনের গণমাধ্যম ও তৃণমূল সাংবাদিকতার বিকাশে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন কামরুল হাসান মঞ্জু। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গণমাধ্যম ভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি)। এর মাধ্যমে তিনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল মফস্বল সাংবাদিকতাকে উচ্চমানে নিয়ে যাওয়া। এজন্য তিনি শতাধিক পুস্তক ও জার্নাল প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সংস্থার কার্যালয়ে থরে থরে সাজানো থাকতো গণমাধ্যম এবং শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক নানান প্রকাশনা। জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র ছিল এটি। কামরুল হাসান মঞ্জু তৃণমূল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ ও মফস্বল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন প্রমুখ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন।



আমি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টারে ২০১১-২০১৪ সালের দিকে যুক্ত ছিলাম এবং তখন তার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার এক অপূর্ব সযোগ আমার হয়েছিল। তাঁকে কখনো উচ্চস্বরে কিংবা ধমকের সুরে কথা বলতে দেখিনি। তাঁর একাগ্রতা, পরিশ্রম, সততা ও বিনয়ীভাব আমাদের জন্যে ছিল অনুকরণীয়। ওই সময় প্রকল্প পরিচালক হিসেবে আমি সুইজারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহায়তাপুষ্ট 'সিটিজেন্স ভয়েস ফর ইমপ্রুভড পাবলিক সার্ভিসেস' (সংক্ষেপে সিভিআইপিএস) প্রকল্পে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম। দেশের মোট ১২টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছিল। এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল স্থানীয় সরকার সাংবাদিকতাকে প্রোমোট করা। এজন্য কর্ম-এলাকার গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন আয়োজনসহ তৃণমূল সাংবাদিকদের ইন্টার্নশীপ ও ফেলোশীপ প্রদান করা হতে। এমএমসির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ টি জেলায় তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠিত করে বিভিন্ন প্লাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছিল। বরগুনা জেলায় তিনিই দেশের প্রথম 'কমিউনিটি রেডিও' কার্যক্রম শুরু করেন।



প্রয়াত কামরুল হাসান মঞ্জুকে নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে স্মরণ-সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ। এতে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুর, আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ, সাংবাদিক মুন্নী সাহাসহ অনেকে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, কামরুল হাসান মঞ্জু বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ১০ অক্টোবর নোয়াখালীতে বিআরডিবি মিলনায়তনে এবং এর পরের দিন ফেনীতে ডক্টরস ক্লাবে কামরুল হাসান মঞ্জুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৭৬৯৬
পুরোন সংখ্যা