চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৯। তবে তাহার জন্যে রহিয়াছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান,


৯০। আর যদি সে ডান দিকের একজন হয়,


৯১। তবে তাহাকে বলা হইবে, হে দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী! তোমার প্রতি শান্তি।


 


 


 


 


একটা হাত পরিষ্কার করতে অন্য একটা হাতের সাহায্য দরকার।


-সিনেকা।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণসাধন করেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


 


 


ফটো গ্যালারি
আলো হাতে প্রবীণের সঙ্গে জীবন কানাই দাস
হাসান আলী
১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জীবন কানাই দাস ১৯৫৩ সালের ৩০ এপ্রিল চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানাধীন বাজাপ্তী গ্রামে জন্মলাভ করেন। পিতা গোকুল বিহারী দাস ছিলেন বাজাপ্তী রমণীমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের অঙ্কের শিক্ষক। তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়েছিল এই স্কুলে। তিনি বাজাপ্তী রমণীমোহন স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। আরও ভালো ফলাফল করার জন্যে চাঁদপুর শহরে অবস্থিত ডিএন হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখান থেকে এসএসসি পাস করে ১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় চতুর্দশ স্থান লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বিশাল জনসভা শেষে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম-নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে তিনি ভারতে চলে যাওয়ার জন্যে মনস্থির করেন। নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ২৫ এপ্রিল ভারতে এসে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ৩ নম্বর সেক্টর থেকে সরকারের সিদ্ধান্তে ২ নম্বর 'ওয়্যার ফোর্স'-এ যোগ দেন। উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্যে ভারতের মুর্ত্তি মিলিটারি একাডেমিতে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। সেনাবাহিনীতে একজন চৌকষ অফিসার হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।



মেজর জেনারেল হিসেবে ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন জীবন কানাই দাস। একই বছর বন্ধু রহমান জিলানীর অনুরোধে প্রবীণ সেবায় নিবেদিত স্যার উইলিয়াম বেভারিজ ফাউন্ডেশনে যোগ দেন। রহমান জিলানী ব্রিটেনে প্রায় একযুগ ধরে হোমকেয়ার সার্ভিস পরিচালনা করছেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছিলেন, বাংলাদেশের প্রবীণদেরও অদূর ভবিষ্যতে হোমকেয়ার সার্ভিস প্রয়োজন হবে। স্যার উইলিয়াম বেভারিজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হোমকেয়ার সার্ভিস চালু করে। বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্যে সুলভ মূল্যে মানসম্পন্ন হোমকেয়ার সার্ভিসটি জনপ্রিয় করতে মেজর জেনারেল (অবঃ) জীবন কানাই দাস নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত ১২ বছর ধরে হোমকেয়ার সার্ভিসটি জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। ঢাকায় প্রবীণসেবা দেওয়ার জন্যে প্রায় পঁয়ত্রিশটি প্রতিষ্ঠান এখন 'হোমকেয়ার সার্ভিস' চালু করেছে। স্যার উইলিয়াম বেভারিজ ফাউন্ডেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিতে একদল দক্ষ কর্মী বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করেছে। জীবন কানাই দাস এই প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে থেকে সুধী মহলের সমর্থন, সহযোগিতা, প্রশংসা আদায় করতে পেরেছেন। সরকার প্রবীণ বিষয়ে জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এমআর খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন 'জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা' প্রণয়নের জন্যে। জীবন কানাই দাস এই কমিটির সদস্য হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।



অধ্যাপক এমআর খান, অধ্যাপক ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত, মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস, আবুল হাসিব খান, অধ্যাপক ড. এএসএম আতীকুর রহমানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় 'জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩' সরকার গ্রহণ করে এবং সংসদে পাস করে। বাংলাদেশের প্রবীণদের জন্যে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।



বাংলাদেশে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের নিয়ে কাজ করে তাদের একটি সংগঠন রয়েছে। সেটির নাম ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব দ্য এল্ডারলি (এফআরইবি)। বাংলায় প্রবীণ অধিকার ফোরাম নামে পরিচিত। জীবন কানাই দাস এই প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এফআরইবি প্রতি বছরই সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পত্রিকা প্রকাশ, প্রবীণ দিবস পালন করার মধ্য দিয়ে জনসাধারণের সচেতনতার মান বাড়াতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।



প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মানসম্পন্ন, স্বস্তিদায়ক, শান্তিপূর্ণ, কর্মময় জীবন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় 'প্রবীণ অধিকার মঞ্চ'। দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, শিক্ষক-এনজিও কর্মী, প্রবীণ সেবাকর্মীদের সমন্বয়ে এটি গঠিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের এই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। আর জীবন কানাই দাস হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান। ঢাকা শহরে যেসব প্রতিষ্ঠান হোম কেয়ার সার্ভিস দেয় তাদের একটি সংগঠন রয়েছে, সেটির নাম 'হোম কেয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন'। তিনি এটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। প্রবীণদের কর্মদক্ষতা, সেবা দেশের কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. সবুর খানের উদ্যোগে গড়ে উঠে 'এঙ্পার্ট রিটায়ার্ড পিপলস্ অ্যাসোসিয়েশন' (ইরপা)। জীবন কানাই দাস এটিতে প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।



স্মৃতিক্ষয়জনিত রোগ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসম্পন্ন দৈনন্দিন জীবনযাপন নিশ্চিত করতে গড়ে তুলেছেন ডিমেনশিয়া কেয়ার সেন্টার। এখানে রোগী এবং রোগীর আত্মীয়স্বজনকে কাউন্সেলিং করা হয়। জীবন কানাই দাস নিজে কাউন্সেলিং করেন। তিনি ডিমেনশিয়ার ওপর অস্ট্রেলিয়া থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। প্রবীণদের জন্যে আগামী দিনগুলোতে ডিমেনশিয়া একটা ভয়াবহ নিরাময় অযোগ্য ব্যাধি হিসেবে ধেয়ে আসছে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির মানসম্মত স্বস্তিদায়ক জীবনের জন্যে তিনি নানা ধরনের সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।



প্রবীণ জীবনের সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা সংকট-সম্ভাবনা নিয়ে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধগুলো একত্রিত করে 'প্রবীণ কথা' বইটি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে এই প্রথম প্রবীণদের জীবনের নানা সংকট-সম্ভাবনা নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে প্রবীণ কথা বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিভিন্ন দৈনিকে প্রবীণবিষয়ক লেখা প্রকাশে সংবাদকর্মী ও লেখকদের অনুপ্রাণিত করেন। টেলিভিশনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস, প্রবীণের বাজেট, প্রবীণের ঈদ উৎসব, আলঝেইমারস দিবসগুলোতে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন।



বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ সদস্যদের কল্যাণে জীবন কানাই দাস বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রবীণ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলো অধিকতর কার্যকর করতে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। 'প্রবীণ হিতৈষী সংঘে'র সদস্য পদ অর্জন করেছেন। তিনি পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় চাঁদপুরের হাইমচর থানার উত্তর আলগী ইউনিয়নে প্রবীণসেবা কার্যক্রম ও সমৃদ্ধি কর্মসূচি বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এই ইউনিয়নের সব প্রবীণের সার্বিক উন্নয়নের জন্যে নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের টয়লেট ব্যবহারে হাইকমোড, চলাফেরার জন্যে লাঠি, হুইল চেয়ার, ছাতা এবং শীতে কম্বল-চাদর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর্থিক অনুদান, চিকিৎসাসেবা, বিনোদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবীণ জীবনকে শান্তিপূর্ণ স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জীবন কানাই দাস সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দেন। তিনি ঢাকাস্থ হাইমচর সমিতির সভাপতি, ঐতিহ্যবাহী ধামরাই রথযাত্রা যশোমাধব মন্দিরের সভাপতি, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।



প্রবীণ জীবন কানাই দাস আত্মপ্রচারবিমুখ সহজ-সরল সাদাসিধে মানুষ। অকপটে সত্য বলতে পারেন। প্রশংসা পাওয়ার জন্যে কাতরতা নেই। কাজেকর্মে ক্লান্তি নেই। সবাইকে ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার বাসনা নেই। প্রবীণের কষ্টলাঘবের জন্যে আছে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। অর্থবিত্তের মোহকে পাশ কাটিয়ে দুঃস্থ-অসহায় প্রবীণের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন। তিনি আলো হাতে প্রবীণের সঙ্গে রয়েছেন। প্রবীণ কল্যাণে তাঁর মতো দক্ষ সংগঠক হিসেবে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন_এটাই প্রত্যাশা।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪৬৫২৯
পুরোন সংখ্যা