চাঁদপুর, সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৬। তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও,


৮৭। তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেনো? যদি তোমরা সত্যবাদী হও!


৮৮। যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,


 


 


assets/data_files/web

সমাজতন্ত্রই শোষিত নির্যাতিত জনগণের মুক্তির একমাত্র পথ।


-লেনিন।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
আকুপ্রেশার চিকিৎসায় থ্যালাসেমিয়া নিরাময় হয়
অধ্যাপক কেএম মেছবাহ উদ্দিন
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল রোগ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোনো চিকিৎসা আবিষ্কার হয় নি। প্রাথমিকভাবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ দেখা দেয়। পিতা-মাতার যে কোনো একজন অথবা উভয়ই যদি থ্যালাসেমিয়ায় ভোগেন তবে তাদের থেকে আগত শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়।



থ্যালাসেমিয়ার মূল কারণ :



১. পিতা-মাতার যেকোন একজন অথবা উভয়ই যদি থ্যালাসেমিয়া মাইনরে আক্রান্ত থাকে।



২. পিতা-মাতার যেকোনো একজন যদি জটিল যৌন রোগে আক্রান্ত থাকে।



৩. পিতা-মাতার রক্তের গ্রুপ যদি সামঞ্জস্য না থাকে।



৪. কোনো বংশের ছেলে-মেয়েরা যদি নিজেদের মধ্যেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে থাকে (যেমন এক সময় ইংল্যান্ডে রাজ পরিবারে ছিল)।



থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সমস্যাগুলো :



এই রোগীদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে :



১. এদের হজম প্রণালীর অঙ্গগুলো যেমন পাকস্থলি, লিভার, পিত্তথলি ইত্যাদি খুব ধীর গতি সম্পন্ন। ফলে হজম শক্তি খুব দুর্বল হয় এবং পেটে প্রচুর গ্যাস জন্মায়। এদের প্রায়ই উদরাময় (পাতলা পায়খানা অথবা কোষ্টকাঠিন্য হতে দেখা যায়)



২. এদের রক্ত উৎপাদনকারী অপরিহার্য অঙ্গ প্লিহা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। ফলে নতুন রক্ত (বিশেষ করে হিমোগ্লোবিন) উৎপাদন ব্যাহত হয়।



৩. এদের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলোর মধ্যে : ক) থাইরয়েড/প্যারাথাইরয়েড ও যৌনগ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। ফলে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস (বিপাক হয় না) দেহ থেকে নিঃশেষ হয়ে যায়। সেই কারণে দেহের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সরবরাহ করতে পরে না। এরা কোনো পরিশ্রমের কাজ করতে পারে না, সামান্যতেই এদের জয়েন্টগুলো ব্যথা করে।



খ) এড্রিনাল ও অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। ফলে প্রায়ই এদের মাথা ব্যথা (মাইগ্রেনের সমস্যা) থাকে এবং এদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।



এসব কারণে শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং এদেরকে বয়সের তুলনায় ছোট দেখায়।



যদি কোনো শিশু বয়সের তুলনায় বৃদ্ধি না হয় এবং এদের চোখের নিচের পাপড়ির ভেতরের দিকে সাদা (লাল না থাকে) থাকে তবে এদের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করা উচিত।



পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই রোগের কোনো চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি। কিন্তু আকুপ্রেশার এই রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ সনাক্ত করা যায় তবে কয়েক মাসের মধ্যে এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে।



এই রোগের চিকিৎসার জন্য করণীয় :



১. প্রতিদিন চার্জিত পানি পান করতে দিন। (৬০ গ্রাম মরিচামুক্ত লোহা/৬০ গ্রাম বিশুদ্ধ তামা/৩০ থেকে ৬০ গ্রাম রুপা /১০ থেকে ৩০ গ্রাম সোনা আট গ্লাস পানিতে রেখে ফুটিয়ে চার্জ করে নিন। তারপর ছেকে নিয়ে সম্ভব হলে ফ্লাঙ্ েরেখে দিন। সারা দিন এই পানি কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় পান করতে দিন। এটি আমাদের জীবনী শক্তিকে বৃদ্ধি করে এবং গ্রন্থিগুলোকে সক্রিয় করে। ফলে শরীরে টঙ্নি উৎপাদনের মাত্রা কমে যায়।)



২. প্রতি রাত এক কাপ সবুজ রস পান করতে দিন। (সম পরিমাণ পালংশাক, লাউ শাক, বাধা কপি, পুদিনা পাতা, তুলসী পাতা ইত্যাদির সাথে লাউ, মুলা, ধুন্দুল ইত্যাদি সবজি এক কথায় যে কোনো নির্বিষ শাক-সবজি ভালোভাবে পরিষ্কার করে ১০মিনিট হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এক গ্লাস পানি মিশিয়ে বস্নান্ডারে বস্নান্ড করে ছেঁকে নিন। যেসব শাক সবজি যত পুরু এবং যত বেশি সূর্যের আলো পায় তাতে তত বেশি প্রাণ শক্তি থাকে। এই রস হলো সবুজ, নিয়মিত পান করলে ইনশাল্লাহ আপনি হবেন চির সবুজ। দেহের প্রয়োজনীয় সব রকমের লবণ ও খনিজ পদার্থ এর মধ্যে আছে এবং এগুলো সহজেই হজম হয়। এটি ক্ষারধর্মী হওয়ায় এসিডধর্মী টঙ্নিকে নিষ্ক্রিয় করে।)



৩. প্রতি রাতে এক কাপ ফলের রস পান করতে দিন।



৪. সবুজ সালাতের সাথে বাদাম ও গুঁড় মিশিয়ে প্রতি দিন প্রচুর পরিমাণে খেতে দিন।



৫. অধিক মসলাযুক্ত ও ভাজা-পোড়া খাবার এবং এর সাথে লবণ, দুধ, ফ্লেভারযুক্ত (চকলেট,বিস্কুট, কেক,পাউরুটি ইত্যাদি ) জাতীয় খাদ্য খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। যদি লবণ খেতেই চায় খনিজ লবণ (বিট লবণ) সামান্য পরিমাণ দিতে পারেন।



৬. ২১টি করে নিম পাতা, ২১টি তুলসি পাতা ও ২১টি বেল পাতা নিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে ১০ মিনিট কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর আধা কাপ পানি সহ বস্নান্ড করে ছেঁকে নিন। এই রসের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করতে দিন।



যদি এই পাতাগুলো পাওয়া সম্ভব না হয় তবে হোমিও ঔষধের দোকান থেকে এই পাতাগুলোর মাদার টিংচার আধা আউন্স করে কিনে নিন। এগুলো একত্রে মিশ্রণ করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আধা কাপ পানিতে ৫ ফোঁটা ঔষধ মিশিয়ে পান করতে দিন। এটি শক্তিশালী রক্ত পরিষ্কারক টনিক। বস্নাড ক্যান্সারের জন্য এটি খুবই উপকারী।



৭. চিকিৎসা শুরুর ১৫ দিন পর থেকে প্রতিদিন প্রচ- ক্ষুধার সময় ২ কাপ দধির সাথে তাল মিসরী মিশিয়ে খেতে দিন।



৮. পাকস্থলি, হাঁটু, পিঠ ও প্লিহায় দিনে দু'বার নীল আলোর থ্যারাপী দিন। এমনটি এই সকল অঙ্গকে পুনরায় সজিব করে।



৯. হোমিও বায়োকেমিক ঔষধ ঋরাব চযড়ং ১২ী, ৩টি করে বড়ি দিনে তিনবার ৪৫ দিন সেবন করতে দিন। এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ঘাটতি পূরণ করে। ১৫ দিন ঔষধ বন্ধ রেখে প্রয়োজন হলে আবার দিন।



১০. হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য দিনে দু'বার হ্যান্ড রোলার ও ফুট রোলার রোলিং করতে দিন।



১১. হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর জন্য কালো কিচমিচ রাতে আধা কাপ পানিতে নিচের তালিকা অনুসারে খেতে দিন এবং পানিও পান করান।



১ম দিন ১+১+১ ২য় দিন ২+২+২ ৩য় দিন ৩+৩+৩ ৪র্থ দিন ৪+৪+৪ ৫ম দিন ৪+৪+৪ ৬ষ্ঠ দিন ৪+৪+৪ ৭ম দিন ৩+৩+৩ ৮ম দিন ২+২+২ ৯ম দিন ১+১+১



হিমগ্লোবিন লেভেল পরীক্ষা করে দেখুন, প্রয়োজন হলে একই নিয়মে ইহা সেবন করাতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত হিমোগ্লোবিনের লেভেল সন্তোষজনক অবস্থায় না আসে। এই চিকিৎসা সকল প্রকার ক্যান্সার, টি. বি., প্যারালাইসিস, আর্থ্রাটিস, ব্রেইনের সমস্যা, রক্ত শূন্যতা ও যে সকল শিশুর হিমোগ্লোবিন ঘাটতি আছে তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুদের ক্ষেত্রে মাকে এই চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে।



আকুপ্রেশার চিকিৎসা :



ক) ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ঘাটতি পূরণের জন্য ৮, ১১, ১৩ (শুধু মেয়েদের), ১৪ (শুধু ছেলেদের) নং বিন্দুতে দিনে দু'বার থ্যারাপী দিতে হবে।



খ) হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য ২২, ২৩, ২৭ নং বিন্দুতে দিনে দু'বার থ্যারাপী দিতে হবে।



গ) এড্রিনাল ও অগ্ন্যাশয়কে সক্রিয় করার জন্য ২৮ ও ২৫ নং বিন্দুতে দিনে দু'বার থ্যারাপী দিতে হবে।



ঘ) রক্ত উৎপাদনকারী অপরিহার্য অঙ্গ প্লিহাকে সক্রিয় করার জন্য ৩৭ নং বিন্দুতে দিনে দু'বার থ্যারাপী দিতে হবে।



আকুপ্রেশার চিকিৎসার বই, চিকিৎসা ও যেকোন ধরনের পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন : অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ উদ্দিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ। মোবাইল নং : ০১৯১৪৯১০৬২৬



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৮৪২১
পুরোন সংখ্যা